
শাহজাহান খন্দকার, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঐতিহাসিক “জুলাই গণঅভ্যুত্থান”-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, উলিপুর উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে আসরের নামাজের পর উলিপুর এম.এস. স্কুল অ্যান্ড কলেজ স্মার্ট মাঠ থেকে মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ গেটের সামনে পথসভায় পরিণত হয়।
মিছিল ও সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী, ছাত্র, যুবক এবং সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলকারীরা জাতীয় পতাকা ও জামায়াতের দলীয় পতাকা বহন করেন এবং বিভিন্ন সাইজের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ফেস্টুন প্রদর্শন করেন। স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো শহর—“আল কোরআনের আলো সংসদে জ্বালো”, “জুলাইয়ের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার”, “গণতন্ত্র চাই”, “জুলুমের অবসান চাই”, “বিচার চাই গণহত্যার বিচার চাই”, “ফাঁসি চাই খুনি হাসিনার”, “দালালি না রাজপথ রাজপথ”—ইত্যাদি স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
গণমিছিলটি দাড়িপাল্লা মার্কার নির্বাচনি শোডাউনে রূপ নেয় বলে নেতাকর্মীরা জানান। মিছিলটি কাচারী মোড় পর্যন্ত গিয়ে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই মাসে জনগণ স্বৈরাচার ও ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, তা এদেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আবু সাইদদের আত্মত্যাগ জাতির পথনির্দেশনা হয়ে থাকবে।”
তারা আরও বলেন, “এই চেতনা কখনো মুছে যাবে না। আজকের এই গণমিছিল সেই চেতনারই প্রতিফলন। যতদিন গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন এই আন্দোলন চলবে ইনশাআল্লাহ।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, “তৎকালীন স্বৈরশাসক খুনি হাসিনার তখত ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে কেঁপে উঠেছিল। তিনি পরে দাদার বাড়িতে পালিয়ে গিয়ে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। বাংলার জনগণ এখন তার উপযুক্ত বিচার চায়।”
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উলিপুর উপজেলা জামায়েত নেতা মাওলানা মশিউর রহমান, জামায়েত নেতা তৌহিদুর রহমান ,জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলরা।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মিছিলটি ছিল শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ব্যতিক্রমধর্মী।