
ইশতিয়াক আহমেদ শামীম
এই তো ১৫ থেকে ২০ বছর আগের কথা।সকালে ফজর নামাজের পর মক্তবের মাইকে এলান হতো।আর ছেলেমেয়েরা কুরআন পড়ার জন্য দলবেঁধে মক্তবে যেতো।পড়ার টেবিলে পড়ার আওয়াজ শুনা যেত।আবার অনেকে পড়ার প্রতিযোগিতা করত।কে কত আগে ওঠে পড়ার টেবিলে বসতে পারে। এ ছিল যেন নিরব প্রতিযোগিতা।সকালে পায়ে হেটে দল বেঁধে ছেলেমেয়ে স্কুলে যাওয়া।কি এক মোহনীয় দৃশ্য। যা আজও চোখে ভাসে।শৈশবের সেই স্মৃতি আজও ভাসে। বিকালে খেলার মাঠে হৈ চৈ আর ওভাবে শুনা যায় না।খেলার মাঠটা আজ ফাঁকা পড়ে থাকে।মাঠের চারপাশে দর্শকের ভিড় নেই।সন্ধার পর হারিকেন,কূপি বা বৈদ্যুতিক বাতির আলোতে পড়ার টেবিলে পড়ার ঝড় উঠতো।কে কত রাত জেগে পড়াশুনা করতে পারে তার জন্য চলতো নিরব প্রতিযোগিতা।পরীক্ষায় কে কত বেশি মার্কস তুলতে পারে,পরীক্ষার শেষে তা গর্বের সা বুক ফুলিয়ে বলা।কি দি। গুলোই না ছিল!পাঁচ টাকার কালো নীল কলম দিয়ে লেখা।দশ টাকার খাতা কিনে তাতে স্কেল দিয়ে মার্জিন
দেওয়া। বাবার কাছ থেকে টাকার টিফিন নেওয়া আরো কত কি!
আজ সব হারিয়ে গেছে প্রযুক্তির ছোঁয়ায়।প্রযুক্তির জন্য মানুষের জীবন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে।অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি পড়াশুনায় অমনোযোগিতার প্রধান কারণ।ছোট ছেলেমেয়রা পাবজি ,ফ্রি ফায়ার,মাইন ক্রাফ্ট ইত্যাদি গেইমে আসক্ত হয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় অতিবাহিত করছে।টিকটক ও ফেসবুকে আসক্ত হয়ে রাতের পর রাত নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।তারা মনে করছে পড়াশুনায় দুই এক ঘন্টা সময় দিলেই হবে।এটাই যথেষ্ট।তারা পড়াশুনাটাকে বানিয়ে ফেলেছে প্রাইভেট আর কোচিং নির্ভর।পড়াটাকে তারা ব্যক্তি পর্যায়ে নেয় না।
গ্রামেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় গ্রামের ছেলেমেয়েরাও আজ সমান তালে প্রযুক্তির ক্ষতিকর দিক বেছে নিচ্ছে।এছাড়াও কৌতুহল বশত মাদক সেবন এবং তা থেকে মাদকাসক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবন থেকে তারা অন্ধকারে হারিয় যাচ্ছে।তারা সব সময় নিরব পরিবেশ খোজার চেষ্টা করে।লোকালয় থেকে নির্জন স্হান পছন্দ করে।পড়াশুনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে।
পারিবারিক কলহ,বাবা মায়ের অতিরিক্ত শাসন, পড়াশুনার প্রতি অতিরিক্ত চাপ অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হয়।এতেও ছেলেমেয়েরা পড়াশুনার প্রতি বিষাদ মনোভাব সৃষ্টি হয়।
সমাজে চলতে থাকা নানা অসামাজিক কর্মকান্ড,মাদকের রমরমা বানিজ্য,সহজলভ্যতা ছেলেমেয়েদের জীবনে নানা প্রভাব ফেলে।ফলে তারা পড়াশুনার প্রতি অনীহা দেখা দেয়।
এমতাবস্থায় আমাদের উচিত তাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচারণ করা,তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা,সন্ধ্যার আগে বাড়িতে থাকা,তাদের মনের কথাগুলো শুনা।শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।পড়াশুনার তদারকি করা।হোম ওয়ার্ক মনিটরিং করা।অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার যাতে না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা।ভালো ফলাফলের জন্য পারিবারিক পুরস্কার প্রদান ইত্যাদি।উল্লেখিত পদক্ষেপের মাধ্যমে অনেকটাই ছেলেমেয়েদের পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করতে পাড়বো বলে আমরা আশা করতে পারি।