
শাহজাহান খন্দকার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে সুলতানা পারভীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। তাকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক জনতা আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. বজলুর রশিদ ও অ্যাডভোকেট আজিজার রহমান দুলু। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম।
ঘটনার পটভূমি
২০২০ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে কুড়িগ্রাম শহরের নিজের বাসা থেকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে তুলে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের একটি দল। পরে তাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয় এবং ‘ক্রসফায়ারের’ ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা সাংবাদিক আরিফুলকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেন। পরে তার বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগ এনে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে জেলে পাঠায়।
ঘটনার পর সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায় সাংবাদিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ।
পরে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনসহ কয়েকজন কর্মকর্তাও।
সম্প্রতি সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) তিনি স্থায়ী জামিনের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। তবে আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।