
পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি, আর. এম. কারিমুল্লাহ
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক ভয়ানক সংকটের মুখে। কলেজ ভর্তি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত। WBJEE, NEET, JENPAS, JEXPO, PG Dental—প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফলের পর ভর্তি বা নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে। WBJEE -র তো ফলই এখনও প্রকাশ হলো না !
এ দৃশ্য কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়। এর পেছনে রয়েছে এক গভীর রোগ—দুর্নীতি। চাকরি বিক্রির কেলেঙ্কারি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসংখ্য অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব আর ঘুষের কালো ছায়া ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। আজ এই দুর্নীতির থাবা পৌঁছে গেছে কলেজ ভর্তি ও উচ্চশিক্ষার গেটেও। প্রশ্ন জাগে—কেন এক প্রজন্মকে এমন অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
হাজারো ছাত্রছাত্রী বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে, প্রতিদিন বইয়ের সামনে ঘাম ঝরায়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লড়াই করে। তাদের চোখে স্বপ্ন থাকে—ডাক্তার হওয়ার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার, শিক্ষক হওয়ার। অথচ সেই স্বপ্ন আজ প্রশাসনিক জটিলতা আর দুর্নীতির বলি। সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরা আজ ঘরে বন্দি, হতাশায় ডুবে যাচ্ছে, আর অনেকেই মানসিক ভেঙে পড়ার সীমায় পৌঁছে গেছে। এর দায় কে নেবে?
সরকারের নীরবতা এখানে আরও ভয়ঙ্কর। শাসকের সন্তানের ভবিষ্যৎ বিদেশে সুরক্ষিত, অথচ রাজ্যের লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ কাগজের ফাইলে আটকে পড়ে আছে। শিক্ষা যদি অধিকার হয়, তবে কেন এই অধিকারকে বারবার লঙ্ঘন করা হচ্ছে? কেন শিক্ষা একটা ‘ব্যবসা’ হয়ে উঠছে?
আজকের ছাত্রদের চোখের রক্তাভ দৃষ্টি এই সমাজের প্রতি এক কঠিন সতর্কবার্তা। যদি এখনই সমাধান না আসে, তবে এর ফল মারাত্মক হতে বাধ্য। ছাত্ররা কেবল ভুক্তভোগী নয়—তারাই আগামী দিনের পরিবর্তনের বাহক। এবং ইতিহাস সাক্ষী, যখন কোনো প্রজন্মকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়, তখন সেই প্রজন্মই প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে তোলে।
তাই আজ জরুরি প্রশ্ন তোলা—
আমাদের পরিশ্রমের মূল্য কোথায়? আমাদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা কোথায়? শিক্ষা কি দুর্নীতির বাজারে বিক্রি হবে?
যদি শিক্ষা বাঁচে, তবে সমাজ বাঁচবে। আর যদি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যায়, তবে গোটা রাজ্যই অন্ধকারে ডুবে যাবে।