
মো: আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হালুয়ারঘাট বালু-পাথর ডাম্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধ ড্রেজার দ্বারা উত্তোলিত বালু সহ ১টি ডিআই ও ৮টি ট্রলি আটক করেছে ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ১টি ডিআই ৮ ইঞ্জিন চালিত ট্রলি যার আনুমানিক মূল্য ১৩ লক্ষ টাকা,১টি ডিআই এবং ৮ টি ট্রলিতে থাকা ৭শত ঘনফুট বালু যার মূল্য ৪০ হাজার সহ সর্বমোট জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
এঘটনায় রহস্যজনক ভাবে বালুর মালিক এবং গাড়িতে থাকা চালকদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে বালু খেকো সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে কেউ যাতে কোন উপায়ে একমুঠো বালু-পাথর উত্তোলন করতে না পারে সেদিকে জেলা পুলিশ কঠোর নজরদারি করছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে বালু-পাথর খেকো সিন্ডিকেট চক্রের মূল হোতা ডলুরা শহীদ মিনার এলাকার বালু-পাথর ব্যবসায়ি ইলিয়াস মিয়ার ছেলে কাজল মিয়ার ট্রলি ২টি তার ভাই সবুজ মিয়ার ট্রলি ২টি,গুদিগাও গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে বালু-পাথর ব্যবসায়ি সাদেক মিয়ার ডিআই গাড়ি ১টি তার ড্রাইভার গুদিগাও গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ট্রলি ১টি, আব্দুল হাই’র ছেলে ওসমান মিয়ার ট্রলি ১টি,ফরিদ মিয়ার ছেলে ইউসুফ মিয়ার ট্রলি ১টি,মৃত রেকমত আলীর ছেলে জিয়ার ১টি। কাজল মিয়া,সাদেক মিয়া,আবু কালাম,শারফিন,ইউসুফ মিয়ার নেতৃত্বে রাতের আধাঁরে বালু উত্তোলন করে শহরতলীর হালুয়াঘাট ড্রাম্পে নিয়ে আসার পথে ডিবি পুলিশ বালু ভর্তি ৯টি ট্রলি আটক করে ক্র্যাশার ব্যবসায়ি কবির ও মইনুল মিয়ার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ইনচার্জ বলেন,ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ডলুরা শহীদ মিনার এলাকা হতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলি যোগে হালুয়ারঘাট ড্রাম্পে বালু ভর্তি ১টি ডিআই এবং ৮টি ট্রলি আসার পথে আটক করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো আবুল কালাম বলেন,এসপি স্যারের নির্দেশে ইজারাবিহীন ধোপাজান চলতি নদীতে যাতে কেউ একমুঠো বালু উত্তোলন করতে না পারে সেদিকে আমরা দিনরাত ২৪ ঘন্টা কঠোরভাবে নজরদারি করছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে পুলিশের পাশাপাশি জনগনকেও সর্তক থাকতে হবে।